 |
| sleeping Regal Koala |
প্রাণিজগতের বিচিত্র ঘুম
ঘুম বা নিদ্রা হচ্ছে মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর দৈনন্দিন কর্মকান্ডের ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যখন সচেতন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া স্তিমিত থাকে। নিষ্ক্রিয় জাগ্রত অবস্থার সাথে ঘুমন্ত অবস্থার পার্থক্য হল এ সময় উত্তেজনায় সাড়া দেবার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং শীতনিদ্রা বা কোমার চেয়ে সহজেই জাগ্রত অবস্থায় ফেরত আসা যায়।
সকল স্তন্যপায়ী ও পাখি এবং বহু সরীসৃপ, উভচর এবং মাছের মধ্যে ঘুমানোর প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। মানুষ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী এবং অন্য বেশ কিছু প্রানীর (যেমন কিছু প্রজাতির মাছ, পাখি, পিঁপড়া এবং ফ্রুটফ্লাই) অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে নিয়মিত ঘুম আবশ্যক। ঘুমানোর কারণ সম্বন্ধে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি জানতে পারেননি এবং তা নিয়ে বর্তমানে গবেষণা চলছে। আর একটি ব্যপার। ঘুমন্ত মানুষের চেহারার কোন এক অজানা অতিরিক্ত আবেগ অনুভূতি কাজ করে। যা তার গোপন এক প্রাকৃতিক নিরাপত্তা দিয়ে থাকে
 |
| Infant |
 |
| Brown Bat |
 |
প্রাণী জগতের ঘুমের সময়ের তালিকা |
একেক প্রাণীর ঘুমানোর ধরন একেক রকম ঘুমের সময় অধিকাংশ
প্রাণী কার্যত নিশ্চল থাকে। আর তাদের মাংসপেশি থাকে শিথিল। কিন্তু এটা কোনো বাঁধাধরা
বিষয় নয়। কিছু পাখি ঘুমের মধ্যে উড়তে পর্যন্ত পারে
কোনো প্রাণী কম ঘুমায়, আবার কোনো প্রাণী বেশি ঘুমাতে
পছন্দ করে। যেসব প্রাণী কম ক্যালরির খাবার খায়, তাদের ঘুমের পরিমাণও তুলনামূলক কম
হয়ে থাকে
১৯৭০-এর দশকের এক গবেষণায় দেখা যায়, জিরাফ দিনে মাত্র
পাঁচ থেকে ৩০ মিনিট ঘুমায়।
১৯৬৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, এক জাতের ছোট বাদামি
বাদুড় দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা ঘুমাতে পারে।
 |
| Python |
 |
| Rat |
 |
| cat |
 |
| Ceetah |
ঘুমের উপকারিতা
১. পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বা কম হলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়তে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ঘুম না হলে শরীরের ‘লিভিং অরগানিজমগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। নষ্ট হতে পারে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য। বাড়তে পারে উচ্চ রক্তচাপ ও হাইপার টেনশন।
২. ঘুম কম হলে হার্টের সমস্যা হতে পারে। ঘুমের সময় হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালি বিশ্রাম পায়। তাই ঘুম কম হলে প্রতিনিয়ত কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা বাড়তে থাকে। ফলে হার্টের সমস্যা বাড়তে থাকে।
৩. ঘুম পর্যাপ্ত না হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন রাতে না ঘুমানো বা কম ঘুমানোর ফলে শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
৪. ঘুম শরীরের ক্ষতি পূরণ ও শক্তি সঞ্চয়ের একটি পন্থা। তাই ঘুম কম হলে তা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়। আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য দায়ী ‘লিভিং অরগানিজম’ (Living organisms)। কিন্তু আমরা না ঘুমালে এই ‘লিভিং অরগানিজম’গুলো কাজ করতে পারে না। ফলে ক্রমশ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে।
৫. মস্তিষ্কে ওরেক্সিন নামের একটি নিউরোট্রান্সমিটার আছে, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখতে সহায়তা করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ওরেক্সিন উৎপাদনের গতি মন্থর হয়ে যায়।
৬. প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বাড়তে পারে হজমের সমস্যা। না ঘুমালে শরীরের পাচন ক্রিয়ায় সাহায্যকারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে খাবার হজমে সহায়ক পাচক রসগুলো উপযুক্ত মাত্রায় নিঃসরণে বাধা পায়।
 |
| squirrel |
 |
| Rabbit |
 |
| Gerbil |
 |
| Gaint Amradillo |
 |
| North American Opossum |
 |
| Owl Monkey |
 |
| Tree shrew |
 |
| Ferret |
 |
| hree-toed Sloth |
 |
| Platypus |
 |
| Mouse |
 |
| Lion |
 |
| Platypus |
 |
| Jaguar |
 |
| Monkey |
যেমন
পানিতে বাসকারী ভোঁদড়রা ঘুমের সময় একে অন্যের হাত ধরে রাখে, কিংবা পরস্পরকে জড়িয়ে
ধরে, যাতে তারা পানিতে ভেসে থাকতে পারে। বড় ভোঁদড়রা ছোট ভোঁদড়কে রক্ষার জন্য এ কাজটি
বেশি করে। আবার কিছু কিছু মানুষ যেমন বিছানায় সন্তান বা সঙ্গীর সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি
করে ঘুমায়, একই কাজ করে থাকে গরু বা ভেড়ার মতো যূথবদ্ধ প্রাণীরাও, যেন ঘুমন্ত অবস্থায়
অতর্কিত হামলার কবলে পড়লে তারা একাট্টা হয়ে সেটির মোকাবিলা করতে পারে।