![]() |
| কাঠবিড়ালী |
*একটা কাঠবিড়ালীর সঙ্গে লুকোচুরি খেলতে গিয়ে ভারি মজার ব্যাপার ঘটেছে।
জঙ্গলের সেই গোলাকার ফাঁকা জায়গাটা তো চেনো তোমরা সবাই মাঝখানে যার একটামাত্র বার্চ গাছ? এই গাছটাতেই একটা কাঠবিড়ালী লুকিয়ে বেড়াচ্ছিল আমার কাছ থেকে। সবেমাত্র একটা ঝোপ থেকে বেরিয়েছি, দেখি গাছের পেছন থেকে ওর নাক আর চকচকে দুটো ছোট চোখ উকি মারছে। খুদে প্রাণীটাকে দেখতে ইচ্ছে হলো
তাই গোল জমিটার কিনারা বরাবর চক্কর দিতে লাগলাম। যাতে ভয় না পেয়ে যায়, তাই খেয়াল করে একটু দূরে দূরেই থাকতে হল। পুরো চারবার ঘুরে এলাম, কিন্তু খুদে শতোনটা সন্দেহমাখা দৃষ্টি নিয়ে দূরে গাছের পেছনদিকে হটে যেতে লাগল। অনেক চেসটা চরিত্তির করেও ওর পিঠটা দেখতে পেলাম না।”
"কিন্তু তুমিই তো বললে এইমাত্র যে গাছটাকে চারবার চক্কর দিয়েছ,” প্রশ্ন করল
শ্রোতাদের একজন।
"গাছের চারপাশে ঠিকই, কিন্তু কাঠবিড়ালীকে ঘিরে তো নয়!”
“কিন্তু কাঠবিড়ালীটা তো গাছের উপরই ছিল, তা-ই না?” "তাতে কী?”
“তার মানেই হল তুমি কাঠবিড়ালীটাকেও ঘুরে এসেছ। "
“বা রে! ওর পিঠটাই দেখতে পেলাম না, আর তুমি বলছ ওর চারপাশে ঘুরে এলাম।"
"ঘুরে আসার সঙ্গে পিঠের আবার কী সম্পর্ক? গোল জমিটার মাঝখানের গাছটায় ছিল কাঠবিড়ালী। সেই গাছটাকে বেড় দিয়ে এলে তুমি। তার মানেই হল কাঠবিড়ালীর চারপাশে তুমি ঘুরে এলে।"
"আরে না, তা নয়। ধরো, তোমার চারপাশে ঘুরছি আর তুমিও এমনভাবে ঘুরছ যাতে তোমার মুখটাই দেখতে পাচ্ছি কেবল। তার মানে তোমাকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করা হল বলতে চাও?"
“নিশ্চয়ই, তা ছাড়া আর কী?”
"তার মানে, তোমার পেছনদিকে কোনো সময়ই পৌঁছতে পারলাম না বা তোমার পিঠটাও দেখতে পেলাম না, তবু তোমাকে ঘুরে আসা হয়ে গেল?”
"পিঠ-টিঠ ভুলে যাও! আমার চারধারে ঘুরে এলে-এটাই বড় কথা। পিঠের জন্য কি ঠেকে থাকছে?"
“থামো বাবা, প্রদক্ষিণ করা কাকে বলে বলো তো? এটাকে আমি যেভাবে বুঝি, তা হল-কোনো জিনিসের চারপাশে এমনভাবে ঘুরে আসা যাতে সে জিনিসটাকে সব দিক থেকেই দেখতে পাওয়া যায়। ঠিক বলিনি, প্রফেসর।" আমাদের খাবার টেবিলে একজন বৃদ্ধের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি করল সে।
![]() |
| Universe |
অধ্যাপক উত্তর দিলেন, "
তোমাদের সমস্ত আলোচনা আসলে একটিমাত্র শব্দরে নিয়ে। 'প্রদক্ষিণ' শব্দের সংজ্ঞা সম্পর্কে প্রথমে একমত হতে হবে তোমাদের। ' কোনো কিছুর চারপাশে প্রদক্ষিণ করা' বলতে কী বোঝ তোমরা? কথাটা থেকে দু'ধরনের অর্থ বোঝা যায় । প্রথমটা হল, একটা বৃত্তের মাঝখানে আকা কোনো জিনিসকে ঘুরে আসা। দ্বিতীয়টা হল, জিনিসটার চারপাশে এমনভাবে ঘোরা যাতে তার সব দিকটাই দেখতে পাওয়া যায়। যদি প্রথম অর্থটাই ধরতে চাও, তা হলে কাঠবিড়ালীকে চারবার ঘোরা হয়েছে তোমার। যদি দ্বিতীয় অর্থটাকে মেনে নাও, তা হলে কাঠবিড়ালীর চারপাশে মোটেই ঘোরা হয়নি। তোমরা দু'জনে যদি একই ভাষায় কথা বলো, আর শব্দগুলিকে একইভাবে মানে করে নাও তা হলে সত্যিই বিতর্কের আর কোনো প্রয়োজন থাকে না।"
"আচ্ছা, মেনে নিলাম কথাটার দুটো অর্থই হয়। কিন্তু এর ভেতর সঠিক কোনটা?” "এভাবে প্রশ্ন করাটা তো ঠিক হল না তোমার যে-কোনোটাকেই মেনে নিতে পার তোমরা। কথাটা হল, দুটোর ভেতর সাধারণত কোন অর্থটাকে মেনে নিই আমরা? আমার মতে প্রথমটা। কেন তা বলছি। তোমরা জানো সূর্য নিজের চারপাশে পুরো পাক খেয়ে আসে ২৫ দিনের একটু বেশি সময়ে ..."
সূর্যও ঘোরে নাকি?”
“নিশ্চয়ই, ঠিক পৃথিবীর মতোই ঘোরে। একটা উদাহরণ দিচ্ছি। মনে করো, এতে সূর্যের ২৫ দিনের বদলে লাগছে ৩৬৫ দিন, অর্থাৎ পুরো এক বছর। ঘটনাটা যদি এমন দাঁড়ায়, তা হলে পৃথিবী থেকে সূর্যের একটা দিক, অর্থাৎ 'মুখটাই' কেবল দেখা যাবে। তবু কেউ কি জোর করে বলতে পারত যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে না?”
“ঠিক, এতক্ষণে বুঝলাম আমি কাঠবিড়ালীর চারপাশেই ঘুরে এসেছি তা হলে।” আমাদের একজন সঙ্গী চেঁচিয়ে উঠল, “ভাই, আমার একটা কথা আছে। বৃষ্টি পড়ছে, কেউই বাইরে বের হচ্ছি না। তা হলে, সবাই মিলে ধাঁধার খেলা চালানো যাক। কাঠবিড়ালীর ধাঁধাটা দিয়ে বেশ শুরু করা গেছে। এসো, আমরা সবাই কিছু বুদ্ধির খেলা বের করি। প্রফেসর হবেন আমাদের প্রধান বিচারক। "
বীজগণিত বা জ্যামিতির ব্যাপার-ট্যাপার থাকলে আমি কেটে পড়ছি,” বলল একজন
"আমিও!" তার সঙ্গে সুর মেলাল আর একজন।
"না, সব্বাইকেই খেলতে হবে! অবশ্য কথা দিচ্ছি খুব সোজা আর সাধারণ ছাড়া বীজগণিত বা জ্যামিতির ভেতর যাব না আমরা। আপত্তি আছে কারও "মানা,” সবাই চেঁচিয়ে উঠল একসঙ্গে, তা হলে শুরু করা যাক!
.jpeg)

